Doctor Health Tips: সুস্থ থাকতে হলে কি করনীয়? একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ জেনে নিন!
বর্তমান সময়ে ভেজাল খাদ্য, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দূষিত পরিবেশের জন্য বিভিন্ন জটিল ও ক্রনিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এছাড়া দেখা যায় বয়স হয়ে গেলে খাবার খাওয়ার মত ওষুধ খেতে হয়। রোগ নিয়ে সহজ ভাবে বেঁচে থাকতে ভালো লাগেনা। তার জন্য নিজেকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে আপনার কোন কোন পরামর্শ মেনে চলা জরুরী জেনে নেওয়া যাক এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে। অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আজকের এই প্রতিবেদন।
অনেক সময় দেখা যায় মাঝে মাঝে আমাদের ক্লান্তি বা অবসন্ন ভাব শরীরের মধ্যে, তার সাথে হালকা জ্বর বা কখনো একটু মাথা ধরা। আবার কখনো রাত্রিবেলা ঠিকমত ঘুম হয় না। যখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাই তখন ডাক্তার একটাই কথা বলে লাইফ স্টাইল ঠিক করতে। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকদিনের লাইফটাইম যদি আমরা ঠিক না রাখি তাহলে উপরের ওই উপসর্গগুলো আমাদের শরীরে হতে থাকে। শরীরকে ঠিকমতো মেইনটেইন না করলে আমাদের শরীর আমাদের বশে থাকে না। তার জন্য নিয়মিত শরীর চর্চা থেকে শুরু করে একটি ভালো লাইফ স্টাইল ফলো করা উচিত। আর সব থেকে বড় জরুরী সঠিকভাবে জল গ্রহণ করা। জল ঠিকমতো না খেলে শরীরের হরমোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হয় না আর তার জন্যই শরীরে এর বড় প্রভাব পড়ে। প্রত্যেকদিন চার থেকে পাঁচ লিটার জল পান করা উচিত। জল শরীরকে সতেজ রাখি এবং বিভিন্ন রোগ থেকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম করে শরীরকে। এর সাথে মাথা ধরা বা ক্লান্তির মতন বিভিন্ন উপসর্গগুলো দূর করতে জলের অবদান অনেক। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস জল খাওয়া অবশ্যই জরুরী আর তারপর এক ঘন্টা পর পর একটু একটু করে জল খেতে হবে। তৃষ্ণা পেলেই যে জল খেতে হবে ব্যাপারটা তেমন নয়, তৃষ্ণা পাওয়া ছাড়াও জল খাওয়া জরুরী।
পেট ভরার জন্য যে কোন খাবার খেয়ে নেওয়া উচিত নয়। রাস্তার ফাস্টফুড বা তেলঝাল মসলাযুক্ত খাবার শরীরের জন্য কখনোই ভালো নয়। খিদে পেলেই যে কোন খাবার খেয়ে নিলে সেটা শরীরের জন্য উপকার হয় না বরং অপকার ডেকে আনে। পুষ্টি ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার আপনাকে গ্রহণ করতে হবে। আর তার জন্য সবজি, শাক, ফল মূল, দুধ, ডিম জাতীয় খাবার আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
আরোও পড়ুন: কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান? এই তিনটি সবজি নিয়মিত আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়।
বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের শুরু করে বয়স্ক সবাই মোবাইল গেম বা টিভির মধ্যেই আসক্ত থাকে। আর এটাই সবথেকে বড় রোগের কারণ। প্রত্যেকদিন না ব্যায়াম করলে বা হাঁটাচলা না করলে শরীরে অনেক রকম রোগ জর্জরিত হয়ে পড়ে। তাই উচিত প্রতিদিন নিয়ম করে হাটা এবং ব্যায়াম করা। অর্থাৎ শরীরকে এক জায়গায় বসিয়ে না রেখে নাড়াতে হবে। তাহলেই হাড় ও পেশি সচল থাকবে।
বর্তমান জেনারেশনের জন্য ঘুম একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলে রাত দুটো তিনটে আগে ঘুম কিছুতেই আসছে না। আসলে মোবাইল স্ক্রল করতে করতে ঘুমালে কখনোই ঘুম আসবে না। ঘুমোনোর আধঘন্টা আগে মোবাইল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজন হলে গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমানোর চেষ্টা করুন দেখবেন তাড়াতাড়ি চলে আসবে।
মনের যত্ন নিন: শুধুমাত্র শরীরকে খেয়াল রাখলেই চলবে না আপনাকে মনের যত্ন নিতে হবে। আর তার জন্য গল্পের বই পড়ুন, গান শুনুন, পরিবার আত্মীয় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কথা বলুন।
অ্যালকোহল বা ধূমপান পরিত্যাগ করার চেষ্টা করুন কারণ এগুলো অনেক বড় রোগের কারণ।
এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন। খাওয়ার আগে হাত ধোয়া এবং বাইরে থেকে এসে হাত পা ধুয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে নেওয়া অবশ্যই জরুরি। এতে যে কোন সংক্রমনের হাত থেকে আপনি রক্ষা পাবেন।
শরীরের সিগনাল গুলো উপেক্ষা করবেন না। অনেক সময় শরীর আমাদের কোন বড় রোগ হওয়ার আগের থেকে সিগন্যাল দেয়। হালকা জ্বর মাথা ব্যাথা বা অন্যান্য উপসর্গ আমাদের শরীর জানান দিয়ে থাকে। কিন্তু আমরা সেগুলোকে উপেক্ষা করি আর তার জন্যই বড় কোন রোগ আমাদেরকে আরো জাকিয়ে বসে। তার জন্য শরীরে এই আগাম সর্তকতা গুলো যখনই লক্ষ্য করবেন সরাসরি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
সব থেকে বড় কথা নিজে শরীরের খেয়াল নিজের রাখতে হবে এবং নিজের মনের খেয়ালও নিজের রাখতে হবে। তার জন্য সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে জল খাওয়া, একটু হাটা, ব্যায়াম ও খাদ্য তালিকায় পুষ্টি ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা এবং বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়া এগুলি আপনার শরীর ও মনকে সুস্থ ও চাঙ্গা রাখবে। শরীর ও মন ভালো থাকলে দেখবেন আপনার মস্তিষ্ক অনেক ঠান্ডা রয়েছে এবং যেকোনো কাজে আপনি ক্লান্তি অনুভব না করে এনার্জি পাবেন যা আপনাকে সব কিছু কাজের জন্য কনফিডেন্স বয়ে নিয়ে আসবে।




