প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনা দেশের কৃষকদের জন্য তৈরি করা একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরাহা দেওয়া হয়। কৃষিকাজ জনিত কাজে সুবিধা আনার জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে কীটনাশক কেনার জন্য যে অর্থ খরচ হয় কৃষকদের সেই অর্থের কিছুটা অংশ কেন্দ্রের তরফ থেকে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে। এতদিন পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি কৃষক উপকৃত হচ্ছিলেন তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এই প্রকল্পের জন্য নতুন নিয়ম করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষাণ যোজনার প্রকল্পের অনুদান পেতে হলে এবার থেকে কৃষকদের ফার্মার আইডি কার্ড দরকার পড়বে। এই আইডি কার্ড না দেখালে অনুদান পাওয়া যাবে না। এই সংক্রান্ত ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
২০২৬ এর মার্চ মাসে ২২ তম কিস্তি টাকা জমা হয়ে গিয়েছে কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে। এইবার ২৩ তম কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা হয়েছে। তবে ২৩ তম কিস্তির টাকা দেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন নিয়ম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। এই নতুন নিয়ম অনুসরণ করি এবার থেকে কৃষকদের ফার্মার আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে তবেই মিলবে এই প্রকল্পের টাকা।
নতুন নিয়ম আনার কারণ কি?
প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনা প্রকল্পে কেন্দ্র সরকার নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করার সবথেকে বড় কারণ হলো এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখা। যাতে যোগ্য কৃষকরা এই প্রকল্পের অনুদান পেতে পারে এবং তাদের আর্থিক সহায়তা হয় তার জন্যই ফার্মার আইডি কার্ড চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ তেলেঙ্গানা শহর ১৪ টি রাজ্যে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। এই কার্ড না করলে ২৩ তম কিস্তির ২০০০ টাকা পাবেন না কৃষকরা।
আরোও পড়ুন: 2 মাসের টাকা একসাথে! যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে নতুন ঘোষণা, জানুন বিস্তারিত!
এছাড়াও কৃষকদের এই প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ডের ব্যাপারেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিয়ম করা হয়েছে ২০১৯ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারির পর যারা জমির মালিকানা পেয়েছেন তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। যদিও আগে তারা সুবিধা পেয়ে থাকেন তবে বর্তমানে যোগ্যতার বিচারে তারা অযোগ্য হিসাবে উল্লেখিত হবে। অন্যদিকে যে সমস্ত পরিবারের বাবা ছেলে বা একই পরিবারের অনেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন সেই ক্ষেত্রেও ভেরিফাই করে পরিবারের শুধুমাত্র একজনকে সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে দেয়া হবে, অন্যদেরকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে। ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেই পরিবারের সকল সদস্যদের অনুদান বন্ধ রাখা হবে।
ইউনিক ফার্মার আইডি কার্ড কি?
এই কার্ডটি কৃষকদের একটি ডিজিটাল পরিচয় বহন করবে। এই কার্ডের মধ্যে কৃষকদের জমির বিবরণ, ফসলের তথ্য, সার ব্যবহারের তথ্য, পশুপালন সংক্রান্ত তথ্য, এছাড়াও সার ভর্তুকি, বিজ সরবরাহ, ফসল বিমার তথ্য সংক্রান্ত সমস্ত কিছু উল্লেখ থাকবে তার ফলে কৃষকদের বারংবার ডকুমেন্ট দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে।
কিভাবে ফার্মার আইডি কার্ড জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন?
রাজ্য সরকারের অ্যাগ্রিস্ট্যাক পোর্টাল বা কৃষি দফতরের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। তার জন্য আধার কার্ড এবং রুমের নথিপত্র প্রয়োজন হবে এবং ই-কিওয়াইসি সম্পন্ন থাকতে হবে।
স্ট্যাটাস দেখবেন কি করে?
আপনার নাম প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য পিএম কিষানের সরকারি ওয়েবসাইটে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে। এই ওয়েবসাইটে গিয় ‘Farmers Corner’ অপশনে এসে ‘Beneficiary List’ চেক করতে পারবেন। এই লিস্টে রাজ্য, জেলা, ব্লকএবং গ্রাম নির্বাচন করে বা ‘Know Your Status’ অপশনে গিয়ে আপনার স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
পিএম কিষান প্রকল্পের ২৩ তম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে জলে 26 সালের জুন বা জুলাই মাস নাগাদ। তাই তার আগে আপনার ব্যাংক একাউন্টে যাতে অনুদানের টাকা ঢুকতে পারে তার জন্য ফার্মার আইডি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে নিন।